নোয়াখালীর সুধারাম থানায় শিক্ষকের দায়ের হওয়া পর্ণোগ্রাফী মামলায় হাতিয়ার কৃষি কর্মকর্তাসহ আরও সাতজনের বিরুদ্ধে নতুন করে এজাহার দাখিল করা হয়েছে। এর আগে ওই মামলায় হাতিয়ার এক প্রকৌশলীসহ পাঁচ শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন এজাহার দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদি মামুন অর রশিদ। তিনি বলেন, আসামিরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তখন প্রাণভয়ে তাদেরকে এজাহারে নাম দেওয়া যায়নি। এখন তাদেরকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে আবেদন করা হয়েছে।
নতুন আসামিরা হলেন, হাতিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর সহযোগি সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ সাহাব উদ্দিন (৪৬), উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন (৪১), রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার (৪৭), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার (৫৩), সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান (৫৪), অফিস সহকারি নাজিম উদ্দিন (৩৫) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারি সোহরাব উদ্দিন (৩৬)।
এর আগে একই মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম (৪০), একই উপজেলার জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন (৫২), মধ্য রেহানিয়া আবদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন তানবীর (৩৫), ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম (৩৫) ও হাসান উদ্দিন বিপ্লব (৩৮, সাময়িক বরখাস্ত) এবং সদর উপজেলার মাইজভান্ডার শরীফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন (৫৫)। এরমধ্যে প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে বাদি ও তার স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে গত ৫ মে নোয়াখালীর সুধারাম (সদর) থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ (আইসিটি) আইনে মামলা করেন হাতিয়ার ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদ।
শিক্ষক মামুন অর রশিদ বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দাখিল করা হয়েছে। বিচারক এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।